পৃথিবীতে
কয়েক শ্রেণীর চোর আছে :
পৃথিবীর বুকে
মানুষই একমাত্র অদ্ভূত প্রাণী। যে সৃষ্টিকর্তা ব্যতিত সব কিছুই করতে পারে। তাকে
চেনা যায়; আবার তাকে চেনা যায় না। বড় অদ্ভূত সে! তার এই অদ্ভূত কিছু তুলে ধরতে
এবারের এ আয়োজন-
১. সৌখিন চোর : মানুষই সৌখিন কিছু তৈরি করে। আবার আরেকজন মানুষই সেটার
প্রতি লোভ করে সেটা চুরি করে। বেশির ভাগ ঘটে এটা বন্ধুত্ব ও পরিবারের আত্মীয়ের
মধ্যে। অপরিচিতজনদের কাছ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেলেও নিকটস্থের কাছে সেটা যদি
একটু বিপরীত ঘটে তাহলে রক্ষা নেই। তেমনি টেবিলে সাজানো ছিল সৌখিন মোমের পুতুলটা।
নিকটস্ত একজন বেড়াতে আসার পরের দিন সেটা আর নেই। ঘরের পাশেই ছিল কালো কিংবা নীল
গোলাপের গাছটা। সেখানে কিছু ফুল ফুটে ছিল। মাধুর্য্যের মা সেটা অনেক সখ করে সংগ্রহ
করে লাগিয়েছিল গোলাপের চারাগুলো। বাসায় একদিন ভাড়াটিয়ার মেহমান এসে নিয়ে গেল সেটা।
যদিও ফুলগুলো ছিঁড়তে একটা মানা ছিল-‘ফুল ছিঁড়বেন না’ কিন্তু কে শুনে কার কথা! ফুলগুলো যে খুব পছন্দ হয়েছে।
যেভাবেই হোক সেটা চাই চাই; এই পরিকল্পনা খেলতে থাকে সৌখিন চোরদের বেলায়।
২. খাবার চোর : পৃথিবীতে মানুষ যখন চরম ক্ষুধার্তের মধ্যে সময় যাপন করে, তখন তার হিতাহিত
বোধ থাকে না।
খাদ্যের খুজে ছুটে বেড়ায় পাগলের মতো। পেটের ক্ষুধাকে নিবারন করতেই সে খাবার
চুরি করে।
৩. সম্পত্তি চোর : পৃথিবীতে সবচেয়ে নিমক হারামির কাজ করে এই শ্রেণীর চোর। তাও আবার নিজের কাছের লোক। ভাই,চাচা,মামা এই শ্রেণীর
মানুষরাই বেশি হয়। সম্পত্তি চুরির মধ্যে জমি, জমির দলিলাদি এবং গৃহের পালিত পশু। পৃথিবীতে যে
কয়টি জিনিষের প্রতি মানুষের বেশি লোভ সেগুলোর মধ্যে জমিন একটি। এর অর্থ। কেউ কাউকে
ভাল থাকতে দেখতে পারে না এই শ্রেণীর মানুষরাই সম্পত্তি চুরি করে থাকে নানা কৌশল
অবলম্বন করে।
৪. লেখা চোর : এই শ্রেণীর মানুষরা অন্যের লেখা চুরি করে নিজের
নামে চালিয়ে দিতে চুরির করার জন্য ওঁত পেতে থাকে। অনেক ভদ্র লোক আছেন যারা জীবনে
এক কলমও না লিখে লেখক বনে যান। বর্তমান অনলাইনে এই প্রভাবটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
একজনের লেখা আরেকজন চুরি করে তার নিজের নামে পোষ্ট করে দিচ্ছেন। এদের নেশাই হলো
লেখা চুরি।
৫. ভাব বা আচরন চোর : পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষই
একে অন্যকে অনুসরন করে। তা থেকে শিক্ষা অর্জন করে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন
যারা সেই অনুসরনটা কে পুজি করে নিজ স্বার্থ হাসিলের আশায় টার্গেটকৃত ব্যক্তির পুরো
আচরণটাই চুরি করে। সেরকম মুখোশ পরে বিশাল ধরণের ক্ষতি করে।
৬. কারেন্ট চোর : যারা অবৈধভাবে বিদ্যুত সংযোগ
নিয়ে তা ব্যবহার করে এই শ্রেণীরাই কারেন্ট চোর। কারণ এরা বিদ্যুত বিল দেয় না।
সরকারকে ফাঁকি দিয়ে থাকে।
৭.কর্ম চোর : পৃথিবীর সবচেয়ে সুযোগ
সন্ধানী ও অলস শ্রেণীরাই কর্মস্থলে কাজ ফাঁকি দিয়ে থাকে। অফিসে সময় মতোন যান না;
হাজিরা খাতায় সই করেন না। ঠিক মত দায়িত্বপালন করেন না। এরাই কর্ম চোর বলে পরিচিত।
৮. বই চোর : জীবনে এই শ্রেণীর লোকদের অনেক দেখা যায়। শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গৃহের টাকে সাজানো কিংবা টেবিলে রাখা অনেক প্রয়োজনীয়
বই-ই চুরি হয়ে যায় অনেক সময়। যেগুলো আর ফেরত আসে না।
৯. তথ্য চোর : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত
উইকিলিকসের কথা কে না জানে। পুরো দুনিয়াটাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার
হুমকি। ঢুকে ঢুকে বিশ্বের অনেক দেশ পানিও খেয়েছে এই আশংকায় কখন যে তার দেশের গোপন
তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র,ব্রিটেন,ইরাক,ইরান এমনকি বাংলাদেশকেও ছাড়েনি ভয়ের
আশঙ্কা থেকে। অপর দিকে প্রতি মিনিটে তথ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে গোপন সূত্রের দ্বারায়।
এই কাজটি করে যাচ্ছে অনলাইনের বহুল আলোচিত হ্যাকার নামক এক সংগঠন। যারা ধ্বংস করে
দিচ্ছে বিশ্বের মূল্যবান মূল্যবান ওয়েব সাইট। এছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা সফটওয়ার
তৈরি করে হাতিয়ে নিচ্ছে অতি গোপনকৃত
তথ্যগুলোও। তাছাড়াও ওয়েব সার্কিট ক্যামেরা,গোপন ক্যামেরার সাহায্যেও এক শ্রেণীর
প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে মূল্যবান সব লুকানো তথ্য । পরবর্তীতে সেটা ফাঁস করে
দেওয়ার হুমকি দিয়ে স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য কিছূ উসুল নিতেই এতো দৌড় ঝাপ তাদের।
১০.কলম চোর : রাষ্ট্রের বৃহত্তর
চুরিকান্ড গুলো ঘটে এই কলমের সাহায্যে। যার একটি সিগনেচার বা স্বাক্ষর নাকি লক্ষ
লক্ষ টাকা এমনকি কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। যাকে অবহিত করে ‘দূর্নীতিবাজ’ উপাধি দিয়ে। যার একটি সই
ছাড়া বাজেট পাস হয় না; টেন্ডার মিলে না; চাকরি হয় না; চাকরির প্রমোশন হয় এবং অবসরে
যাওয়ার সময় পেনশনের টাকাটা তোলা হয় না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন